
জীবনানন্দ দাশের ‘বনলতা সেন’ কেবল একটি কবিতা নয়, এটি বাঙালির চিরন্তন রোমান্টিকতার এক অবিচ্ছেদ্য অনুভূতি। শতবর্ষ পেরিয়েও এই সৃষ্টি যেভাবে আজও নতুন প্রজন্মের প্রেমিক-প্রেমিকাদের হৃদয়ে দোলা দেয়, তা সত্যিই জাদুকরী। আর এই কালজয়ী চরিত্রটিকে সেলুলয়েডের পর্দায় নিয়ে আসা নিঃসন্দেহে একটি দারুণ এবং সাহসী উদ্যোগ।

কিছুটা আঁচ করতে পেরেছিলাম। কারণ জীবনানন্দ দাস ও বনলতা সেন কবিতাটির প্রচুর ভক্ত। ওই জায়গা থেকে সবার আগ্রহ ছিল৷ চরিত্রটির অবয়ব কীরকম হতে পারে— রহস্যটা কাজ করছিল। মনে হচ্ছিল যখন ক্যারেক্টার পোস্টার দিয়ে মিস্ট্রিটা ভাঙা হবে তখন এরকম রেসপন্স আসবে। মাসুদ হাসান উজ্জ্বল ভাই প্রতিটি চরিত্রের ওপর অনেক কাজ করেছেন। সেটা এখন সবাই দেখছে। খায়রুল বাসারকে সবাই খুব অ্যাপ্রিশিয়েট করেছে। তাকে জীবনানন্দ দাসের মতোই লাগছে। আমারও ভালো লাগছে। এটা নির্মাতা ও খায়রুল বাসারের কৃতিত্ব। এরইমধ্যে টিজার এসেছে। সামনে আরও প্রমোশনাল কনটেন্ট আসবে।

আপনি বনলতা সেন চরিত্রে অভিনয় করেছেন…
সবাই বলছে আমি বনলতা সেন। নামভূমিকায় আছি। কিন্তু আমরা কেউ জানি না বনলতা সেন আসলে কে। এটাই রহস্য। একটা জিজ্ঞাসা। জীবনানন্দ দাস আসলে কাকে নিয়ে লিখেছেন কবিতাটি, আসলেই কি এরকম কোনো মানুষ ছিল, নাকি নামটা রূপক, নাকি অন্য কোথাও থেকে ধার করেছেন— পাঠকদের ভেতর এটা খোঁজার জার্নি সবসময় ছিল। নামটা নিয়ে নানা থিওরি আছে। থিওরিগুলোর ওপর নির্ভর করেই গল্পটা। সেগুলোই দেখতে পাবেন। এরচেয়ে বেশি বলব না৷ আমি বনলতা সেন এটা বলা কঠিন। তবে অবশ্যই আমার চরিত্রটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। অনেক চাপ ছিল। চাপটা নিতে চেয়েছিলাম। কেননা সিনেমার ক্ষেত্রে কেউ সহজ কিছু করতে চায় না। সব আর্টিস্ট-ই এমন কিছু করতে চায় যা তার জন্য চ্যালেঞ্জের।
নির্মাতা গল্পটা যেভাবে সাজিয়েছেন— শুধু আমার চরিত্র না প্রতিটি চরিত্রে ওনার ভিশন বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছেন। জীবনানন্দের জীবনে বনলতা সেনকে নিয়ে একেকজনের কল্পনা একেকরকম। তার অবয়ব, হাঁটাচলা, কথাবার্তা— সব নিয়েই কৌতূহল। পর্দায় যাকে দেখবেন সে মাসুদ হাসান উজ্জলের কল্পনা। ওনার কল্পনাকে বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছেন। আমি যুক্ত হই ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের ২৮-২৯ তারিখের দিকে। জানুয়ারি-মার্চ টানা মহড়া করি। আমাদের সংলাপগুলো অনেক বেশি কঠিন। কিন্তু সেদিন উজ্জ্বল ভাইয়ের অফিসে সবাই মিলে সিনেমাটি দেখার সময় অবাক হয়ে যাচ্ছিলাম যে এই কঠিন ডায়লগগুলো আমি দিয়েছি! এটা সম্ভব হয়েছে নির্মাতার কারণে। আমরা প্রচুর রিহার্সাল করেছি, সংলাপগুলো আত্মস্থ করার চেষ্টা করেছি। এই প্রস্তুতিটা নির্মাতা করিয়ে নিয়েছেন।

অনেক যন্ত্রণা দিয়েছে। হতাশ হচ্ছিলাম। ছবিটা যে মুক্তি পাবে সে আশাও একসময ছেড়ে দিয়েছিলাম। গত বছরের শুরু থেকে উজ্জ্বল ভাই বলছিলেন এ মাসে হবে ও মাসে হবে। হতে হতেও হচ্ছিল না। একসময় হাল ছেড়ে দিয়েছিলাম। পরে ফিল্মটা প্রস্তুত হলে উনি আমাদের সঙ্গে বসেন। বিলম্বের কারণগুলো জানান। যৌক্তিক ছিল সেগুলো। নানারকম জটিলতার কারণে হয়ে উঠছিল না।
সিনেমাটি দেখার পর আমাদের একটা কথাই ছিল—ঈদে রিলিজ পাওয়ায় একরকম ভালোই হচ্ছে। কারণ গত কয়েক বছরে ঈদের সময় দর্শকরা হলমুখী হয়েছেন। নির্মাতারাও ভিন্ন ভিন্ন ঘরানার সিনেমা এনেছেন। বিশেষ করে গত ঈদে আমরা বিভিন্ন স্বাদের সিনেমা পেয়েছি। দর্শকরাও সেসব নিতে প্রস্তুত।

স্ক্রিপ্ট পড়ার সময় এবং শুটিংয়ের সময় মনে হতো সিনেমাটি আদতে কীরকম দর্শক দেখবে। তবে অত চিন্তা করিনি। কেননা চিত্রনাট্য দারুণ লেগেছিল। প্রত্যেকের মনে হয়ছে আমরা এই গল্পের অংশ হতে চাই। সিনেমার ভবিষ্যৎ কী হবে, কয়জন মানুষ দেখবে— মূখ্য ছিল না। উজ্জ্বল ভাইয়ের গল্প বলার ভাষা একটু জটিল। অডিশনের আগে একটু পড়াশোনা করে গেছি বলে হয়তো স্ক্রিপ্টটা বুঝতে পেরেছি। দর্শক কতটা বুঝতে পারবে সন্দেহ ছিল। কিন্তু দেখার পর মনে হলো উনি ওনার মতো করে গল্প বলেছেন। নিজের ছাপটা রেখেছেন। কিন্তু সেটা সহজবোধ্য। কারও বুঝতে অসুবিধা হবে না।
আমি প্রতি বছর সিনেমা করতে চাই। আমাকে নিয়ে যদি না ভাবা হয় সেটা তো মুশকিল। তবে নিয়মিত কাজ করতে চাই।
_20240605_172428257_20260520_131634770.jpg)