leadingnews.net
সর্বশেষ :
leadingnews.net এ আপনাকে স্বাগতম।।। নিত্য নতুন খবর সবার আগে পেতে আমাদের সাথে থাকুন।।। ধন্যবাদ।।।

নানা কৌশলে কারাগারে ঢুকছে মাদক, কারারক্ষীরাও জড়িত

  • আপডেট সময় : সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬
  • ৬৮ বার পঠিত

কড়াকড়ির মধ্যেও নানা কৌশলে কারাগারে ঢুকছে হেরোইন, ইয়াবা, গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক। বন্দিরা তো বটেই, খোদ কারারক্ষীরাও শরীরের বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে এসব মাদক ভেতরে নিয়ে যাচ্ছেন। কারাগারে এসব মাদক বিক্রি ও সেবন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের দায়িত্বশীলরা এ অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকারও করছেন না। তবে তাদের দাবি, কারা ফটকের তল্লাশিতে বেশির ভাগ মাদক জব্দ করা হয়।

কারা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২০ মে থেকে চলতি বছরের ২০ মে পর্যন্ত দুই বছরে মাদক-সংশ্লিষ্টতায় সাজা পেয়েছেন তিন হাজার ৬১৭ জন। এর মধ্যে ৫৭ জন ছিলেন কারারক্ষী, যাদের ২৮ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। অন্যদের বিভিন্ন ধরনের গুরু ও লঘুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ সময়ে উদ্ধার করা হয়েছে ১৩ কেজি ৯০০ গ্রাম গাঁজা, ১১ হাজার ৮৬ পিস ইয়াবা ও ৫৫৬ গ্রাম হেরোইন।

কারা অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) জান্নাত উল ফরহাদ সমকালকে বলেন, কারাগারের ভেতর মাদক বিক্রি ও সেবনের যে অভিযোগ করা হয়, তা অনুমাননির্ভর। একেবারেই যে কিছু ঘটে না, তা নয়। কখনও কখনও বন্দিরা আদালতে হাজিরা দিয়ে ফেরার পথে কিছু ইয়াবা একসঙ্গে করে প্লাস্টিকের প্যাকেটে ভরে ক্যাপসুলের মতো তৈরি করেন। এরপর সেটি গিলে খান। কারাগারে ঢোকার পর বিশেষ ব্যবস্থায় সেটি বের করে আনেন। পরে সুযোগমতো সেবন করেন। সে ক্ষেত্রেও আমরা তথ্য পেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেই। এ ছাড়া বন্দি হোক বা কারারক্ষী– সবাইকে কারা ফটকে তল্লাশি করে ভেতরে ঢোকানো হয়। শরীরের বাইরের অংশে, জুতায় বা অন্য কোনো কিছুতে লুকিয়ে মাদক আনা হলে তা তল্লাশিতে ধরা পড়ে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, কারা ফটকে তল্লাশিতে যে পরিমাণ মাদক ধরা পড়ে, তার চেয়ে অনেক বেশি নানা কৌশলে ভেতরে ঢুকে যায়। সেগুলো উচ্চ দরে বন্দি মাদকসেবীর কাছে বিক্রি করা হয়। টাকা দিলে কারাগারে সবই মেলে, সেই হিসেবে মাদক বরং সহজলভ্য বলা যায়। কারারক্ষীর সহায়তায় সহজেই বন্দিরা চাহিদামতো মাদক পেয়ে যান। সেবনের ব্যবস্থাও হয়।

সম্প্রতি গাজীপুরের কাশিমপুর কারা কমপ্লেক্সের ভেতরে মাদক কারবার ও সেবনের অভিযোগ ওঠে মো. মশিউর নামে এক কারারক্ষীর বিরুদ্ধে। তিনি কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে কর্মরত। তাঁর বিরুদ্ধে ৯টি বিভাগীয় মামলা রয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে তাঁকে মাদক সেবনরত অবস্থায় দেখা যায়। তিনি নিজে সেবনের পাশাপাশি বন্দিদের কাছে মাদক বিক্রি করেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন কারা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা। ইতোমধ্যে তাঁকে কারাগারের ভেতরের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত বছরের ১৬ জুন নীলফামারী জেলা কারাগারে দায়িত্ব পালনের জন্য ঢোকার সময় কারারক্ষী সালমান শাহকে আটক করা হয়। তাঁর প্যান্টের ভেতর গাঁজা পাওয়া যায়। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলার পর তাঁকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে কারা কর্তৃপক্ষ। তাঁকে সাময়িক বরখাস্তও করা হয়। খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত নূর আজিমকে গত বছরের ২ জানুয়ারি গ্রেপ্তার করা হয়। কারাগারে থেকে তিনি ফোন চাঁদাবাজি করছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। এর পর খুলনা জেলা কারাগারে তাঁর সেলে তল্লাশি করে মোবাইল ফোনের পাশাপাশি মাদকও পাওয়া যায়। এই কারাগারে ২০২৪ সালেও সজিব ইসলাম নামে এক বন্দির কাছ থেকে ১৯ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। ওই বছরই কারাগারে থাকা আরেক সন্ত্রাসী সাগর বিশ্বাস ওরফে হাড্ডি সাগরের কাছে গাঁজা পাওয়া যায়।

বন্দিদের কাছেই মেলে বেশি মাদক

কারা ফটকের তল্লাশিতে বন্দিদের কাছ থেকেই বেশি মাদক উদ্ধার করা হয়। দুই বছরে মাদক বহন ও সেবনের কারণে তিন হাজার ৫৬০ জনকে সাজা দেয় কারা কর্তৃপক্ষ। তাদের কাছে পাওয়া যায় ১১ কেজির বেশি গাঁজা, প্রায় সাড়ে ৯ হাজার ইয়াবা, ২৯১ গ্রাম হেরোইন ও ৫৩৭ পিস ডিসোপ্যান-২ ট্যাবলেট। এসব ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে বড় সাজা হিসেবে আরেকটি ফৌজদারি মামলা করা হয়।

এ ছাড়া ডিভিশন পাওয়া বন্দি হলে ডিভিশন বাতিল করা হয়। তবে বেশির ভাগ ঘটনায় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সেলে আটকে রাখা, ডান্ডাবেড়ি পরানো, হাতকড়া পরানো, স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ বন্ধ ও আউড়া বেড়ি পরানোর সাজা দেওয়া হয়।

কারারক্ষীদের যে সাজা হয়

কারা কর্মকর্তারা বলছেন, মাদকের ক্ষেত্রে দেখানো হয় সর্বোচ্চ কঠোরতা। মাদক-সংশ্লিষ্টতার নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। এ ছাড়া অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী দু-তিন বছর বেতন বৃদ্ধি স্থগিত, পদোন্নতি স্থগিত, সতর্ক ও তিরস্কার করার মতো সাজা দেওয়া হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© 2025 | Leading Media & Communication ltd এর এক‌টি প্রতিষ্ঠান।
Design & Development By HosterCube Ltd.