leadingnews.net
সর্বশেষ :
leadingnews.net এ আপনাকে স্বাগতম।।। নিত্য নতুন খবর সবার আগে পেতে আমাদের সাথে থাকুন।।। ধন্যবাদ।।।

ফিফা সভাপতির পদত্যাগ চান স্পেনের লা লিগা সভাপতি

  • আপডেট সময় : বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬
  • ৪৪ বার পঠিত

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে আবারও সরব হয়েছেন স্প্যানিশ ফুটবল কর্মকর্তা ও লা লিগা সভাপতি হ্যাভিয়ের তেবাস। বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ৪৮ থেকে বাড়িয়ে ৬৪ করার সম্ভাব্য পরিকল্পনার কড়া বিরোধিতা করে তিনি ইনফান্তিনোর পদত্যাগও দাবি করেছেন।

ইতালির ক্রীড়া দৈনিক লা গ্যাজেত্তা দেলো স্পোর্ত-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তেবাস বলেন, বিশ্বকাপে আরও দল যুক্ত করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। তার মতে, এমন সিদ্ধান্ত শুধু বিশ্ব ফুটবল নয়, পুরো ফুটবল শিল্পের জন্যই ক্ষতিকর হতে পারে।

৬৩ বছর বয়সি এই কর্মকর্তা বলেন, ‘জাতীয় দলের সংখ্যা বাড়ানোর কোনো অর্থ হয় না। ফুটবল শিল্প কেবল বিশ্বকাপকে ঘিরে নয়। যদিও এটি সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্ট, তবুও সবকিছু বিশ্বকাপকেন্দ্রিক হতে পারে না।’

তেবাসের মতে, জাতীয় লিগগুলোই ফুটবলের মূল ভিত্তি। অথচ মাত্র ৪০ দিনের একটি টুর্নামেন্টের জন্য গোটা ফুটবল ক্যালেন্ডার ও শিল্পকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘এই খেলাকে টিকিয়ে রাখে জাতীয় লিগগুলো। কিন্তু বিশ্বকাপের জন্য বারবার সূচি পরিবর্তন করা হচ্ছে। এতে এমন একটি শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সঙ্গে জড়িত।’

তেবাসের দাবি, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়ের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে সীমিত। তাই পুরো ফুটবল ব্যবস্থাকে এই টুর্নামেন্টের চাহিদা অনুযায়ী পরিচালনা করা উচিত নয়। তার ভাষায়, ‘আমাদের জাতীয় লিগগুলোকে আরও বেশি সুরক্ষা দিতে হবে, জাতীয় দলের সংখ্যা বাড়াতে নয়। কিন্তু দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।’

২০২৬ সালে উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ছিল প্রথম ৪৮ দলের আসর। এর আগে ১৯৯৮ সাল থেকে বিশ্বকাপে অংশ নিত ৩২টি দল। ইতোমধ্যে ২০৩০ বিশ্বকাপে দলসংখ্যা আরও বাড়িয়ে ৬৪ করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো যৌথভাবে সেই আসরের আয়োজক।

এই পরিকল্পনাকে ‘বিপজ্জনক’ আখ্যা দিয়ে তেবাস বলেন, ফুটবলের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের কথা বিবেচনা না করেই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

ফিফা কংগ্রেসে আগামী মার্চে ইনফান্তিনো চতুর্থ মেয়াদের জন্য পুনর্নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও তেবাস মনে করেন, এখনই তার সরে দাঁড়ানো উচিত।

তিনি বলেন, ‘আমার মতে, তার পদত্যাগ করা উচিত। আমার মনে হয়, তার সময় শেষ হয়ে গেছে।’

তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, ফিফার বর্তমান কাঠামোয় ইনফান্তিনোর অবস্থান অত্যন্ত শক্তিশালী। বিভিন্ন জাতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সমর্থন থাকায় তাকে চ্যালেঞ্জ করার মতো কার্যকর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তেবাসের অভিযোগ, ফিফার নির্বাচন ব্যবস্থায় প্রকৃত প্রতিযোগিতা অনুপস্থিত। তার ভাষায়, ‘কেউ প্রার্থী হতে চায় না, কারণ সবাই জানে তারা হারবে। পুরো ব্যবস্থাটাই মূল থেকে অসুস্থ।’

যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ চলাকালে বিভিন্ন ফুটবল কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে ইনফান্তিনোর সমালোচনা করেন, কিন্তু প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চান না।

‘অনেকেই তার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন। কিন্তু কেউ সামনে এসে কিছু করেন না,’ বলেন তেবাস।

বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘটনাও সমালোচনা করেন তিনি। তেবাসের দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও যুক্তরাষ্ট্র সরকার সরাসরি হস্তক্ষেপ করে ওই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছিল।

তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি শেষ ষোলো থেকে বিদায় না নিত, তাহলে বিষয়টি ইনফান্তিনোর জন্য বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি করতে পারত।

ফিফার বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন লা লিগা সভাপতি। তিনি অভিযোগ করেন, ‘ফিফা যেটা চায়, নিজেদের স্বার্থে সেটাই করে। ফুটবলের স্বার্থ সবসময় অগ্রাধিকার পায় না।’

বিশ্বকাপে দীর্ঘ বিরতি ও বাধ্যতামূলক ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ নিয়েও সমালোচনা করেন তেবাস। তার দাবি, অনেক ক্ষেত্রেই এসব বিরতির পেছনে খেলোয়াড়দের প্রয়োজনের চেয়ে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য বেশি কাজ করেছে।

লা লিগার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, তাদের প্রতিযোগিতায় কেবল অতিরিক্ত গরমের সময়ই হাইড্রেশন ব্রেক দেওয়া হয়। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্টেডিয়ামেও একই ধরনের বিরতি রাখা হয়েছিল।

‘স্ট্যান্ডে বসে আমাকে সোয়েটার পরতে হয়েছিল। সেখানে হাইড্রেশন ব্রেকের কোনো প্রয়োজন ছিল না। ওটা ছিল বিজ্ঞাপনের জন্য অতিরিক্ত বিরতি,’ বলেন তেবাস।

বিশ্বকাপ সম্প্রসারণ, টুর্নামেন্ট পরিচালনা ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ফিফা ও ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে সমালোচনা বাড়লেও, শক্তিশালী কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর অনুপস্থিতিতে আগামী মেয়াদেও তার দায়িত্বে থাকার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© 2025 | Leading Media & Communication ltd এর এক‌টি প্রতিষ্ঠান।
Design & Development By HosterCube Ltd.