গত ২৪ জুলাই ২২তম রাষ্ট্রপতি মোঃ সহাবুদ্দিন অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। এরপর ২০ আগস্ট ভোটের তারিখ রেখে ৬ আগস্ট তপশিল ঘোষণা করে ইসি। দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য জোটের প্রার্থী হিসেবে এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নাম চূড়ান্ত করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।
ইসি সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতি পদে একই ব্যক্তির নামে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার বিধান আছে। কারণ, একটি মনোনয়নপত্রে কোনো ভুলত্রুটি থাকলে যাতে অন্যটি বিবেচনায় নেওয়া যায়। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেন সংসদ সদস্যরা। সচরাচর ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিজয়ী হন।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তপশিল অনুযায়ী, আজ সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। মনোনয়ন ফরম যাচাই-বাছাই হবে ১৬ আগস্ট, প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট বিকেল ৪টা পর্যন্ত। একাধিক প্রার্থী থাকলে ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদ কক্ষে ভোট হবে। সংসদ সদস্যরা এই ভোটাভুটিতে অংশ নেবেন।
বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তাদের প্রার্থীই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। ফলে বিএনপি যখন তাদের মনোনীত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করবে, তখনই কার্যত নিশ্চিত হয়ে যাবে ২৩তম রাষ্ট্রপতি হয়ে কে যাচ্ছেন বঙ্গভবনে।
জানতে চাইলে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম মনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে আজ বৈঠক আহ্বান করেছেন। ওই বৈঠকেই রাষ্ট্রপতি প্রার্থীসহ অন্যান্য বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করা হতে পারে। দুপুরের দিকে তারা নির্বাচন কমিশনে গিয়ে রাষ্ট্রপতি পদে চূড়ান্ত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দেবেন।
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, রাষ্ট্রপতি হচ্ছে দেশের সর্বোচ্চ আলঙ্কারিক ও সম্মানজনক পদ। এই পদের জন্য একজন যোগ্য, প্রাজ্ঞ এবং অভিজ্ঞ লোককেই মনোনয়ন দেওয়া উচিত। যিনি হবেন দেশের অভিভাবক এবং রাষ্ট্রের ক্রান্তিকালে ও সংকটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। সেই বিবেচনায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এগিয়ে রয়েছেন।
ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট গ্রহণের পদ্ধতি সম্পর্কে ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, ব্যালট পেপারে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম থাকবে। সংসদ সদস্যরা পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে স্বাক্ষর করে ব্যালট নির্ধারিত বাক্সে জমা দেবেন। ভোট গ্রহণের শুরুতে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। মোট ৩৪৯টি ব্যালটের মধ্যে কতটি বৈধভাবে জমা পড়েছে এবং প্রার্থীরা কত ভোট পেয়েছেন, তা গণনার পর সিইসি ফল ঘোষণা করবেন।