
বিয়ের আংটি বাম হাতের চতুর্থ আঙুল বা অনামিকায় পরা হাজার বছরের পুরোনো এক ঐতিহ্য। বিশ্বের অধিকাংশ দেশে ঐতিহ্যগতভাবে বাম হাতের চতুর্থ আঙুলে বিয়ের আংটি পরার রীতি রয়েছে। কিন্তু জানেন কি কিভাবে এই প্রচলন এলো?
প্রাচীন মিসরীয়দের বিশ্বাস ছিল, এই আঙুল থেকে ‘ভেনা আমোরিস’ বা ভালোবাসার রগ নামে একটি বিশেষ রগ সোজা হৃদয়ে গিয়ে পৌঁছেছে। সেই রগের ওপর আংটি পরাকে তারা গভীর প্রেমের প্রতীক মনে করতেন। পরবর্তীতে ষোড়শ শতাব্দীতে ইংল্যান্ডের রাজা ষষ্ঠ এডওয়ার্ড এক আদেশের মাধ্যমে বাম হাতের চতুর্থ আঙুলে বিয়ের আংটি পরার নিয়মটি বাধ্যতামূলক করেন।
sতবে আধুনিক বিজ্ঞান নিশ্চিত করেছে যে প্রতিটি আঙুলেই রক্তনালী রয়েছে, তাই ভারত, পোল্যান্ড, গ্রিস ও রাশিয়ার মতো অনেক দেশেই ডান হাতে আংটি পরার প্রচলন দেখা যায়।
এনগেজমেন্ট ও বিয়ের আংটি পরা সম্পূর্ণই ব্যক্তিগত পছন্দের ওপর নির্ভর করে। অনেকেই বিয়ের আংটির ঠিক ওপরেই এনগেজমেন্টের আংটিটি রেখে একই আঙুলে দুটি আংটি পরেন, অনেকে আবার দুটি আংটি জুড়ে একটি আংটিতে রূপান্তর করে নেন।
অন্যদিকে, দুটি আংটির ডিজাইন বা আকারে পার্থক্য থাকলে স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য দুটি আলাদা হাতে পরা যেতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে মনে রাখা ভালো যে, ডান ও বাম হাতের আঙুলের মাপে কিছুটা তারতম্য হতে পারে।
একটি টেকসই ও আকর্ষণীয় আংটি নির্বাচন করতে প্রথমে স্বর্ণ বা প্ল্যাটিনামের মতো মানসম্মত ধাতু এবং ডায়মন্ড বা রুবির মতো রত্ন বেছে নেওয়া উচিত।
এ ছাড়া বাড়িতে নিজেরা মাপ না নিয়ে কোনো পেশাদার জুয়েলার্স দিয়ে আঙুলের সঠিক সাইজ নির্ধারণ করা শ্রেয়। কারণ ঋতুভেদে বা তাপমাত্রার কারণে আঙুলের মাপ কিছুটা বদলাতে পারে, যা একজন অভিজ্ঞ জুয়েলার্স সঠিকভাবে পরিমাপ করে সারা বছর পরা যায় এমন নিখুঁত মাপের আংটি তৈরিতে সাহায্য করতে পারেন।