নুসরাত জাহান,বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
কীর্তনখোলার কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে রয়েছে হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্নের কারিগর, দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম সেরা বিদ্যাপিঠ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু দুঃখের বিষয়, বহুমুখী সংকটে জর্জরিত বিশ্ববিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীদের জন্য নেই পর্যাপ্ত পরিবহন সুবিধা। প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের।
২০১১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হয় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠাকালীন ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষে মাত্র ৬টি বিষয়ে স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে ২৫টি বিভাগে স্নাতক এবং সমাজকর্ম ব্যতীত বাকি ২৪টি বিভাগে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে বিদ্যাপিঠটি। তবে দীর্ঘ ১৪ বছরেও শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১১ হাজারের অধিক, যেখানে বাস বরাদ্দ করা হয়েছে মাত্র ২২টি— যা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ব্যর্থতাকেই প্রকাশ করে। এর মধ্যে ১২টি নিজস্ব বাস, বিআরটিসি থেকে ইজারা নেওয়া ৭টি দোতলা বাস এবং ৩টি একতলা বাসসহ মোট ২২টি যা ১১ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য একেবারেই অপর্যাপ্ত। বিষয়টি পর্যালোচনা করলেই দেখা যায়, যেখানে একেকটি বাসের ধারণক্ষমতা সর্বোচ্চ ৫৫ থেকে ১২০ জন, সেখানে প্রায় ৫০০ জন শিক্ষার্থীর জন্য বরাদ্দ রয়েছে মাত্র একটি বাস যা অত্যন্ত অপ্রতুল।
উল্লেখ্য, বরাদ্দকৃত বাসগুলোর মধ্যে অধিকাংশ বাসই অকার্যকর ও পরিবহনে অক্ষম। শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত বাসগুলো নগরীর ৩টি রুটে চলাচল করে— গন্তব্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যথাক্রমে বরিশাল ক্লাব, নতুন বাজার এবং নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত। কিন্তু পর্যাপ্ত বাস না থাকায় নথুল্লাবাদ ও নতুন বাজারসহ অন্যান্য রুটে অধিকাংশ শিক্ষার্থীকেই দাঁড়িয়ে যাতায়াত করতে হয়। প্রচণ্ড গরমে দীর্ঘ সময় একটানা দাঁড়িয়ে থেকে পুরোটা পথ অতিক্রম করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য এবং ঝুঁকিপূর্ণ।
অসমান্তরাল রাস্তায় এবং স্পিড ব্রেকারের নিকটে হঠাৎ ব্রেক করলেই দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীরা হুমকির মুখে পড়ে যা মোটেই কাম্য নয়। এমনকি পরিবহন ক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত যাত্রী বহনের কারণে যেকোনো সময় ঘটতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। এছাড়াও, বাসের সময়সূচি নিয়েও দুর্ভোগ পোহাতে হয় শিক্ষার্থীদের।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকলের নিকট শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা তারা যেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে পর্যাপ্ত পরিবহন সুবিধা দিয়ে শিক্ষার্থীদের সম্ভাব্য দুর্ঘটনা ও ভোগান্তির হাত থেকে পরিত্রাণের ব্যবস্থা করেন।