
শিক্ষাই শক্তি। শিক্ষাই সম্পদ ও সমৃদ্ধির চাবিকাঠি। বিজ্ঞানভিত্তিক, সময়োপযোগী ও জীবনমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা একজন ব্যক্তির প্রতিভা বিকাশের শক্তি জোগায়। আর ব্যক্তির সম্মিলিত শক্তিই একটি জাতির প্রধান সম্পদ, যার মাধ্যমে রাষ্ট্র আরও শক্তিশালী, টেকসই ও উন্নত হয়ে ওঠে।
জ্ঞানভিত্তিক সমাজ তথা রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত। তা না হলে শুধু পাঠ্যপুস্তকনির্ভর শিক্ষায় শিক্ষিত হলেও মানুষ রাষ্ট্রের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
নৈতিক গুণাবলিতে সমৃদ্ধ এবং জীবনদক্ষতায় উন্নত একটি জনগোষ্ঠী রাষ্ট্রের জন্য অমূল্য সম্পদ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা যায়, যেসব মানুষের মধ্যে দশটি জীবনদক্ষতা বিদ্যমান, তারা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিচক্ষণতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও জীবন পরিচালনা করতে সক্ষম হন।
অতএব বলা যায়, নৈতিক গুণাবলিসম্পন্ন মানুষের মধ্যে যদি উন্নত জীবনদক্ষতা থাকে, তাহলে সেই সমাজ বা রাষ্ট্র কখনোই পিছিয়ে থাকবে না। মানসম্পন্ন নাগরিক গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার এমন হওয়া কাম্য, যাতে শিক্ষার্থীরা শিক্ষাজীবনেই প্রয়োজনীয় জীবনদক্ষতা অর্জন করতে পারে। একই সঙ্গে একটি সুশিক্ষিত জাতি গঠনের জন্য জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচিতে নৈতিক শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া অপরিহার্য। সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে নিবেদিত একটি সুশিক্ষিত জনগোষ্ঠীর কোনো বিকল্প নেই। এ প্রসঙ্গে গ্রিক দার্শনিক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক এরিস্টটল বলেছেন, “একজন সুশিক্ষিত নাগরিকই একটি রাষ্ট্রের শ্রেষ্ঠ সম্পদ।” জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচিতে নৈতিকতা ও জীবনদক্ষতার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ সৃষ্টি করা কার্যকর মানবসম্পদ তৈরির অন্যতম পূর্বশর্ত।
উন্নত জীবনদক্ষতা ও নৈতিক গুণসম্পন্ন নাগরিক কীভাবে রাষ্ট্রকাঠামোতে অবদান রাখতে পারে, এই নিবন্ধে তার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। প্রথমে জীবনদক্ষতার নির্দিষ্ট বিষয়গুলো সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো—
আত্মসচেতনতা:
আত্মসচেতনতা মানুষের জীবনের এমন একটি দক্ষতা, যা তাকে সবসময় সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারে। নিরাপদ ও সুস্থ জীবনযাপনের ক্ষেত্রে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আত্মসচেতনতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে জাতীয় শিক্ষাক্রমে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন, যাতে শিক্ষার্থীরা উসকানি, প্রলোভন বা ক্ষতিকর প্রভাব থেকে নিজেদের নিরাপদ রাখতে পারে। আত্মসচেতনতার অভাবে অনেক তরুণ বিপথে চলে যায় এবং অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। এর ফলে তারা পরিবার ও সমাজের জন্য দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিপরীতে, একজন আত্মসচেতন মানুষ বাস্তবতার আলোকে নিজের জীবন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকে, ধ্বংসাত্মক কাজ থেকে বিরত থাকে এবং অন্যদেরও তা থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত করে।
সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি:
সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি হলো কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রতি অন্ধ বিশ্বাসের পরিবর্তে বিশ্লেষণ ও বিচার-বিবেচনার মাধ্যমে যুক্তিসংগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া। এই দক্ষতা জোরদার করতে শিক্ষার প্রতিটি স্তরে যুক্তিবিদ্যা, দর্শন ও মনোবিজ্ঞানের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। যারা সমালোচনামূলকভাবে চিন্তা করতে পারে এবং কুসংস্কার থেকে মুক্ত, তারা একটি প্রগতিশীল সমাজ ও শক্তিশালী রাষ্ট্রকাঠামো গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম।
সৃজনশীল চিন্তাশক্তি:
সৃজনশীল চিন্তা জটিল পরিস্থিতিতে প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে নতুনভাবে চিন্তা করতে শেখায় এবং সমস্যার সমাধানে বিকল্প পথ প্রয়োগে সহায়তা করে। শিক্ষাজীবনে এই দক্ষতা বিকশিত না হলে পেশাগত জীবনে তা অর্জন করা প্রায় অসম্ভব। জাতীয় শিক্ষাক্রমে সৃজনশীল পদ্ধতি ইতোমধ্যে প্রবর্তিত হলেও সময়ের সঙ্গে তা পর্যালোচনা ও সংশোধন করা প্রয়োজন, যাতে শিক্ষার্থীদের অর্জিত সৃজনশীলতা তাদের কর্মজীবনেও কার্যকরভাবে প্রতিফলিত হয়।
সিদ্ধান্ত গ্রহণের দক্ষতা:
ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে পেশাগত জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকৃত নেতৃত্বের অন্যতম কার্যকর হাতিয়ার হলো সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা। বলা হয়, ‘সময়মতো একটি সেলাই নয়টি সেলাইয়ের কাজ বাঁচায়।’ প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বিচলিত না হয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা থাকলে যেকোনো দায়িত্ব সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব। যুক্তিনির্ভর, স্বজ্ঞাভিত্তিক, সীমাবদ্ধ-যুক্তিনির্ভর, আচরণভিত্তিক ও দলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মতো বিভিন্ন প্রক্রিয়া প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সব স্তরে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।
যোগাযোগের দক্ষতা:
যোগাযোগের দক্ষতা একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘সফট স্কিল’। প্রযুক্তির সহায়তাসহ নিজের বক্তব্য, প্রয়োজন ও অবস্থানকে সুসংগঠিতভাবে অন্যের কাছে উপস্থাপন করার সক্ষমতাই এর অন্যতম দিক। কৌশলগত ও কূটনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা, দর-কষাকষি এবং সমঝোতার ক্ষেত্রে এই দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থান, সময় ও পরিস্থিতি বিবেচনায় সঠিক শব্দচয়ন ও উপস্থাপনার মাধ্যমে অনেক কঠিন পরিস্থিতিও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। এক কথায়, এই দক্ষতা মানুষকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। শিক্ষাব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে যোগাযোগ দক্ষতা অর্জনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মেধাবী শিক্ষার্থী ভালো ফলাফল অর্জন করেও যথাযথ যোগাযোগ দক্ষতার অভাবে নিজেদের সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারে না। ফলে তারা হতাশ হয়ে পড়ে এবং কর্মক্ষেত্রে নিজেদের যথাযথ অবদান রাখতে ব্যর্থ হয়।
আন্তঃব্যক্তিক সম্পর্ক:
অন্যদের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা, কার্যকর যোগাযোগ বজায় রাখা, ইতিবাচক, সহানুভূতিশীল ও সহমর্মী মানসিকতার মাধ্যমে সম্পর্কের ভিত্তি সুদৃঢ় করা, সমস্যা সমাধানে দ্বন্দ্ব ও বিভাজনের মানসিকতা পরিহার করা এবং সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত গঠনমূলক আলোচনা চালিয়ে যাওয়া—এসবই আন্তঃব্যক্তিক সম্পর্কের দক্ষতার অন্তর্ভুক্ত। এই দক্ষতাসম্পন্ন জনগোষ্ঠী তৈরি করা গেলে সমাজে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কমবে এবং নাগরিকদের মধ্যে পারস্পরিক বন্ধুত্ব, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধি পাবে। বৃহত্তর সমাজে এসব গুণ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষণ-শিখন প্রক্রিয়ায় বিষয়টি বিস্তারিতভাবে অন্তর্ভুক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা:
প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান ও অনুশীলন ছাড়া সময়োপযোগী ও কার্যকরভাবে সমস্যা সমাধানের পদক্ষেপ নেওয়া প্রায় অসম্ভব। অজ্ঞতার কারণে অনেক সময় মানুষ সমস্যার মূল কারণ অনুসন্ধান না করে শুধু উপসর্গের ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে তথ্য ও উপাত্ত যাচাই ও শ্রেণিবিন্যাসও করা হয় না। সাধারণত মানুষ আগের কাজ পরে এবং পরের কাজ আগে করতে থাকে; বিকল্প সমাধান অনুসন্ধান না করে প্রচলিত পদ্ধতিতেই কাজ করার চেষ্টা করে এবং কার্যকর সমাধান বাস্তবায়নের নতুন পথও খুঁজে দেখে না। আবার যেসব সমস্যা দলগত বুদ্ধিমত্তা ও পরামর্শের মাধ্যমে সমাধান করা প্রয়োজন, সেসব সমস্যাও অনেকে এককভাবে সমাধানের চেষ্টা করে। ফলে কার্যকর সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। তাই শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে এসব দক্ষতা অর্জনের জন্য বাস্তবভিত্তিক অনুশীলনের সুযোগ রাখা প্রয়োজন।
সহমর্মিতা ও মমত্ববোধ:
সহমর্মিতা ও মমত্ববোধকে অনেক সময় সমার্থক মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে এ দুটির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। সহমর্মিতা হলো অন্যের কষ্ট বা দুর্দশা দেখে সাময়িকভাবে অনুভব করা; অন্যদিকে মমত্ববোধ হলো অন্যের পরিস্থিতিকে গভীরভাবে উপলব্ধি করে তা নিজের হৃদয়ে ধারণ করা এবং তার সমাধানে এগিয়ে আসার মানসিকতা। মানুষের মধ্যে এই দুটি গুণ থাকলে সামাজিক বন্ধন শক্তিশালী হয় এবং বিপদ-আপদ, সুখ-দুঃখ কিংবা প্রতিকূলতার সময় কঠিন সমস্যাগুলো সহজে সমাধান করা সম্ভব হয়। এর মাধ্যমে নাগরিকদের মধ্যে ঐক্য ও সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি পায়। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এই দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি আরও বাড়বে। তাই শিক্ষার্থীদের সহমর্মিতা ও মমত্ববোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে জাতীয় শিক্ষাক্রম নতুনভাবে সাজানো প্রয়োজন।
চাপ ও আবেগ মোকাবিলা:
চাপ ও আবেগ নিয়ন্ত্রণের দক্ষতা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে শান্ত ও কার্যকর থাকার জন্য অপরিহার্য। মানসিক ও শারীরিক চাপের মধ্যেও স্বাভাবিকভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা অর্জনে এ দক্ষতার প্রয়োজন রয়েছে। আনুষ্ঠানিক শিক্ষার সব স্তরের পাঠ্যক্রমে চাপ ব্যবস্থাপনার কৌশল ও পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। আবেগ হলো মানুষের জটিল মানসিক ও শারীরিক প্রতিক্রিয়ার সমন্বয়, যা তার আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে। যারা আবেগ নিয়ন্ত্রণে দক্ষ, তারা নিজেদের আবেগকে ইতিবাচক ও গঠনমূলক কাজে পরিচালিত করতে পারে। বিপরীতে, যারা চাপ ও আবেগ নিয়ন্ত্রণে দুর্বল, তারা সংকটময় মুহূর্তে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারে। বাস্তবতা ও আবেগের মধ্যে সমন্বয় সাধন এবং আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করে সঠিক পথে পরিচালিত করাই প্রকৃত দক্ষতা। তাই শিক্ষাব্যবস্থায় এ বিষয়টির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
নৈতিক শিক্ষা ও জীবনদক্ষতার সমন্বয়:
জীবনদক্ষতাসম্পন্ন একটি জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যদি নৈতিক চরিত্রের সমন্বয় ঘটে, তাহলে তার সুফল জাতীয় পর্যায়ে পাওয়া সম্ভব। মানুষ প্রয়োজন অনুযায়ী জীবনদক্ষতাকে ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক—উভয়ভাবেই ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু নৈতিক চরিত্রসম্পন্ন একটি সমাজ সাধারণত এমন কোনো কাজ করে না, যা সমাজ ও রাষ্ট্রের ক্ষতি করে। তাই জাতীয় শিক্ষাক্রমের প্রতিটি স্তরে নৈতিক শিক্ষা ও জীবনদক্ষতার সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে।
উন্নত জীবনদক্ষতাসম্পন্ন নাগরিকরা যদি আত্মমর্যাদাসম্পন্ন, বিবেকবান, সৎ, ন্যায়পরায়ণ, ধৈর্যশীল, কর্মমুখী, পরিশ্রমী, দায়িত্বশীল ও কর্তব্যপরায়ণ হয়; অন্যের অধিকার—বিশেষ করে শিশু, নারী ও প্রবীণদের অধিকার—সম্পর্কে শ্রদ্ধাশীল হয়; বিনয়ী, ধর্মপরায়ণ, পক্ষপাতমুক্ত, উদার, দেশপ্রেমিক, মিতব্যয়ী, গণতন্ত্রমনা, সহানুভূতিশীল, সহমর্মী ও আত্মবিশ্বাসী হয়, তাহলে সেই সমাজ ও রাষ্ট্র উন্নত ও সমৃদ্ধ হবে।
শৈশব ও কৈশোর নৈতিক শিক্ষা অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময়। এ সময়ে মানুষ যা শেখে, তা সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী হয়। যদিও শৈশবে পরিবার থেকেই শিক্ষার সূচনা হয়, শিক্ষাজীবনে এসে তা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে। এরপর শিক্ষার্থীরা পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে শেখে এবং অনুশীলন করে। দুঃখজনকভাবে, শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর একটি অংশ জীবনদক্ষতার সঙ্গে নীতি ও নৈতিকতার সমন্বয় ঘটাতে ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলে অসততা, অতিরিক্ত লোভ, আত্মমর্যাদা ও মূল্যবোধের অভাব, নৈতিক অবক্ষয় এবং ধর্মীয় অনুশাসনের নেতিবাচক প্রয়োগের প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পরিণতিতে সমাজে অন্যায়, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও দুর্নীতিও বেড়েছে।
এখানে নৈতিক শিক্ষার প্রসঙ্গে গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিসের একটি নীতিবাক্য প্রাসঙ্গিক—‘চরিত্রহীন জ্ঞানের বৃক্ষ কেবল বিষাক্ত ফলই ধারণ করে।’ নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত একটি জনগোষ্ঠী যদি জীবনদক্ষতা অর্জন করতে পারে, তাহলে সেই জাতি উন্নত, আধুনিক, টেকসই ও দুর্নীতিমুক্ত জাতি হিসেবে বিশ্বে যথার্থ মর্যাদার সঙ্গে স্থান করে নিতে পারে।
সার্বিকভাবে বলা যায়, একটি কল্যাণমুখী সমাজ গঠনের চাবিকাঠি হলো শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিক শিক্ষা ও জীবনদক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার মধ্যে যথাযথ ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা।
Author: Commander, Bangladesh Navy