নুসরাত জাহান ,বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার পর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের খসড়া গঠনতন্ত্র। গতকাল (৩০ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এ খসড়া প্রকাশ করা হয়। শিক্ষার্থীরা একে ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক চর্চার ইতিবাচক সূচনা হিসেবে দেখছেন।
২০১১ সালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিত্ব নেই। ফলে শিক্ষার্থীদের একাংশ দীর্ঘদিন, ধরে একটি কার্যকর ছাত্র সংসদ গঠনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। গত ২৬ অক্টোবর শিক্ষার্থীরা
উপাচার্যের নিকট তিন কার্যদিবসের মধ্যে খসড়া সংবিধান প্রকাশের দাবি জানিয়ে আবেদন পেশ করেছিলেন।অবশেষে প্রশাসনের উদ্যোগে সেই দাবির প্রতিফলন ঘটল খসড়া গঠনতন্ত্রের মাধ্যমে।
তবে সংসদের নাম নিয়ে কিছুটা মতভেদ দেখা দিয়েছিলো। নামকরণ নিয়ে এই বিতর্ককে উপেক্ষা করে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতোই এই খসড়া গঠনতন্ত্রের নাম নির্ধারণ করা হয়।
প্রকাশিত খসড়া অনুযায়ী, সংসদে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ নির্দিষ্ট কয়েকটি পদ থাকবে এবং নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধি বাছাইয়ের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। খসড়া গঠনতন্ত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদে মোট ২৫টি পদ থাকবে। এর মধ্যে ২৩টি পদে শিক্ষার্থীরা সরাসরি ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচিত করবেন। বাকি দুটি পদে প্রশাসনিকভাবে দায়িত্ব পালন করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (সভাপতি) এবং শিক্ষকদের মধ্য থেকে মনোনীত একজন কোষাধ্যক্ষ।
একইভাবে, হল সংসদের কাঠামোতেও স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেখানে মোট ১৫টি পদ থাকবে, যার মধ্যে ১৩টি পদে সরাসরি ভোটে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিনিধি বেছে নেবেন। অবশিষ্ট দুটি পদে সংশ্লিষ্ট হলের প্রভোস্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন, আর কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সভাপতি মনোনীত একজন আবাসিক শিক্ষক।
এছাড়া প্রার্থীদের ন্যূনতম যোগ্যতা, ভোটাধিকার, মেয়াদ, ও নির্বাচনী আচরণবিধি সম্পর্কেও দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৫ নভেম্বরের মধ্যে শিক্ষার্থীদের মতামত সংগ্রহের পর গঠনতন্ত্র চূড়ান্ত করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী সুরাইয়া তাসনিম বলেন – “বাকসু গঠন নিঃসন্দেহে ভালো উদ্যোগ। এতে শিক্ষার্থীরা নিজেদের মতামত জানাতে পারবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নেও ভূমিকা রাখবে। তবে চিন্তা আছে—যারা নেতৃত্বে আসবেন, তারা কতটা যোগ্য বা সৎ, সেটা নিয়েই সন্দেহ। যদি সঠিক মানুষদের হাতে দায়িত্ব দেওয়া যায়, তাহলে নিশ্চয়ই ভালো কিছু হবে।”
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী সায়মা বলেন- এতদিন ধরে নির্বাচনের অভাব ছিল, এখনও সময়সাপেক্ষ গঠনতন্ত্র চূড়ান্ত হয়নি।
শুধু নির্বাচন হলে হয় না — নেতৃত্ব, স্বচ্ছতা, উৎসাহ, নিরপেক্ষতা থাকতে হবে। নইলে করা হবে শুধু নামের জন্য বা রাজনৈতিক প্রয়োজনে। শিক্ষার্থীদের মনোবল ও অংশগ্রহণ বাড়াতে হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষার্থী উভয়ের দায়িত্ব আছে—মাত্র কমিটি গঠন করাই শেষ কথা নয়।নিয়ম-কানুন ঠিকভাবে হলে, বাকসু শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের, শিক্ষা পরিবেশ উন্নয়নের, সামাজিক সেতুবন্ধনের একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হতে পারে।
গঠনতন্ত্র প্রকাশের মধ্য দিয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ জোরদার এবং শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব বিকাশে নতুন এক দিগন্ত উন্মোচিত হবে — এমনটাই আশা শিক্ষার্থীদের।