কাঁদলেন মির্জা ফখরুল
সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন দলের সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় তাঁর আবেগঘন বক্তব্যে তারেক রহমানসহ উপস্থিত সংসদ সদস্যরা আপ্লুত হয়ে পড়েন। মির্জা ফখরুল সবার কাছে দোয়া চেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাঁকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তারেক রহমানও দলীয় সংসদ সদস্যদের মির্জা ফখরুলের পক্ষে ভোট দিতে বলেন।
বৈঠকে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি স্বাগত বক্তব্য দেন। তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়ার বিষয়ে সংসদ সদস্যদের বিস্তারিত ধারণা দেন। সংসদ সদস্যদের তিনি জানান, আজ বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম নিজেও ভোট দেবেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করলে তাঁর ঠাকুরগাঁও-৩ আসনটি শূন্য হবে।
সভায় উপস্থিত একাধিক সংসদ সদস্য জানান, চিফ হুইপের পর বক্তব্য দিতে দাঁড়ান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বক্তব্যের শুরুতেই আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং প্রয়াত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে। কৃতজ্ঞতা জানান দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি।
বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, দায়িত্ব পালনকালে তাঁর কোনো ভুলভ্রান্তি হয়ে থাকলে কিংবা অজান্তে কারও মনে আঘাত দিলে তিনি ক্ষমাপ্রার্থী। দল তাঁকে যে সম্মান ও দায়িত্ব দিয়েছে, জীবন দিয়ে হলেও তিনি সেই সম্মান রক্ষা করবেন। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপস করবেন না। বঙ্গভবনে যাওয়ার পর সহকর্মীদের সান্নিধ্য না পাওয়ার কথা উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল। কয়েক মিনিটের বক্তব্যে অন্তত চার-পাঁচবার কেঁদেছিলেন মির্জা ফখরুল।
আজ বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে মির্জা ফখরুল ইসলামকে বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় আর দেখা যাবে না। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি শেষ বক্তব্য দিলেন।
পরে বক্তব্য দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, আজ ঐতিহাসিক একটি দিন। অনেক মূল্য দিয়ে আমরা এ জায়গায় এসেছি। দেশে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে রাষ্ট্রের সর্বত্র জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা হবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহি অপরিহার্য– এ বিষয়টি সবাইকে মনে রাখতে হবে।
রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলামের দীর্ঘ রাজনৈতিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, বহু বছর ধরে তিনি দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। দলের দুঃসময়ে অসীম সাহসিকতার সঙ্গে তিনি দলের হাল ধরেছেন; তাঁকে কারাবন্দিও করা হয়েছে।
৭০ অনুচ্ছেদ স্মরণ করিয়ে দিলেন চিফ হুইপ
সভার শুরুতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে সংসদ সদস্যদের বিস্তারিত ধারণা দেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনি। একই সঙ্গে দলীয় সংসদ সদস্যদের সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলামের পক্ষে ভোট চান। তিনি সংসদ সদস্যদের জানান, আগামীকাল (আজ) বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম নিজেও ভোট দেবেন। প্রসঙ্গত, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে রাজনৈতিক দল থেকে পদত্যাগ বা দলের বিপক্ষে ভোটদানের কারণে আসন শূন্য হওয়ার বিষয়ে বলা আছে।
সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ, সেলিমা রহমান, এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ দলের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।