
সকালে ঘুম থেকে উঠে অনেকেই দুধ চা, কালো চা কিংবা কফি পান করেন। তবে হৃদ্যন্ত্রের সুস্থতার কথা বিবেচনা করলে গ্রিন টিও হতে পারে স্বাস্থ্যকর একটি বিকল্প। নারী-পুরুষ সবার জন্যই এটি উপকারী হতে পারে। বিশেষ করে পুরুষদের ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম বয়সে হৃদ্রোগ ও কোলেস্টেরলের সমস্যা দেখা দেওয়ার ঝুঁকি থাকায় স্বাস্থ্যকর পানীয় হিসেবে গ্রিন টি খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।
২০২২ সালের ‘জার্নাল অব দ্য আমেরিকান কলেজ অব কার্ডিওলজি’র তথ্য অনুযায়ী, নারীদের প্রথম হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার গড় বয়স ৭২ বছর। পুরুষদের ক্ষেত্রে এই বয়স প্রায় ৬৫ বছর। হৃদ্রোগ নারী-পুরুষ উভয়ের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। তবে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে হৃদ্রোগের অনেক ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
গ্রিন টির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো ক্যাটেচিন নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এর মধ্যে ইজিসিজি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই উপাদান শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে এবং রক্তনালির স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করতে পারে।
কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, গ্রিন টিতে থাকা ইজিসিজি ক্ষতিকর কোলেস্টেরল বা এলডিএল, মোট কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমাতে সহায়তা করতে পারে। এ কারণে হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো রাখতে গ্রিন টি একটি সহায়ক পানীয় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
তবে গ্রিন টি খেলেই কোলেস্টেরল বা হৃদ্রোগের সমস্যা দূর হবে—এমনটা মনে করার কারণ নেই। এ বিষয়ে গবেষণার ফল এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়।
স্ট্রোকের ঝুঁকিতেও সম্ভাব্য উপকার
কিছু গবেষণায় নিয়মিত গ্রিন টি পান এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমার মধ্যে সম্পর্ক পাওয়া গেছে। ৬ লাখ ৪৫ হাজারের বেশি মানুষের ওপর করা একটি বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রতিদিন ১ দশমিক ২৫ থেকে ৪ কাপ গ্রিন টি পানকারীদের স্ট্রোকের ঝুঁকি প্রায় ২৬ শতাংশ কম ছিল।
তবে এটি পর্যবেক্ষণভিত্তিক গবেষণা হওয়ায় গ্রিন টি সরাসরি স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়—এমন নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
আরও যেসব বিষয় মেনে চলা উচিত
হৃদ্যন্ত্র সুস্থ রাখতে সকালে গ্রিন টি পান করাই যথেষ্ট নয়। পর্যাপ্ত ঘুম, স্বাস্থ্যকর খাবার এবং নিয়মিত শরীরচর্চাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সকালের খাবারে ওটস, আটার রুটি বা অন্যান্য গোটা শস্য রাখা যেতে পারে। পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটা বা অন্য কোনো শারীরিক কর্মকাণ্ডের অভ্যাস করা দরকার। প্রতিদিন পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুমও হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তাই গ্রিন টি হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য সহায়ক হতে পারে, কিন্তু এটি কোনো রোগের ‘অব্যর্থ’ চিকিৎসা নয়। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ—সব মিলিয়েই হৃদ্যন্ত্র সুস্থ রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।