leadingnews.net
সর্বশেষ :
leadingnews.net এ আপনাকে স্বাগতম।।। নিত্য নতুন খবর সবার আগে পেতে আমাদের সাথে থাকুন।।। ধন্যবাদ।।।

হামে মৃত শিশুদের ৯২ শতাংই টিকা পায়নি

  • আপডেট সময় : রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬
  • ৩৮ বার পঠিত

দেশে চলতি বছর হামে মারা যাওয়া শিশুদের ৯২ শতাংশই হাম-রুবেলা টিকার কোনো ডোজ পায়নি। গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার (২৭ জুন) পর্যন্ত দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৭০৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ২৬ শতাংশের বয়স ছিল ৯ মাসেরও কম। শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞ সভায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রের হিসাবে, নির্দিষ্ট সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে ৬১৫ জন এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে ৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। রোগতত্ত্ববিদদের মতে, প্রাদুর্ভাবের সময় হামের উপসর্গে ঘটা প্রতিটি মৃত্যুকেই হামজনিত মৃত্যু হিসেবে গণ্য করা হয়।

কলম্বোতে ২২ ও ২৩ জুন অনুষ্ঠিত ডব্লিউএইচও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের হাম-রুবেলাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ কমিশনের সভায় বাংলাদেশের পরিস্থিতি উপস্থাপন করেন হাম ও রুবেলা নির্মূল কার্যক্রম যাচাইয়ের জাতীয় কমিটির (এনভিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান। তিনি আইইডিসিআরের সাবেক পরিচালক। প্রতিনিধিদলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন সহকারী সচিব, ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং ডব্লিউএইচও ঢাকা কার্যালয়ের রোগ প্রতিরোধবিষয়ক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

 

বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নে, শিশুদের হাম প্রতিরোধক্ষমতার অভাব এবং টিকাদান কর্মসূচিতে নজরদারির ঘাটতি এই সংকটের প্রধান কারণ। দেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় ৯ মাস বয়সে হাম-রুবেলা টিকার প্রথম ডোজ ও ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার বিধান থাকলেও মৃত শিশুদের মাত্র আট শতাংশ এই টিকার আওতায় এসেছিল।

কলম্বোর সভায় উপস্থাপিত বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৯ মাসের কম বয়সী শিশুর মৃত্যুর হার সর্বোচ্চ ২৬ শতাংশ। এরপর রয়েছে দুই থেকে পাঁচ বছর বয়সী ১৮ শতাংশ, ৯ থেকে ১১ মাস বয়সী ১৪ শতাংশ, এক থেকে দুই বছর ও পাঁচ থেকে ৯ বছর বয়সী ১৩ শতাংশ করে, ১০ থেকে ১৫ বছর বয়সী চার শতাংশ এবং ১৫ বছরের ঊর্ধ্বে ১২ শতাংশ। এই চিত্র থেকে স্পষ্ট যে শিশুদের পাশাপাশি বড় বয়সীরাও হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছেন।

একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৮ হাজার ২৬৬ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ১১ হাজার ৫৯৪ জনের নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৭৮ হাজার ২৮৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান বলেন, কলম্বোতে উপস্থাপিত তথ্য জুন মাসের প্রথমার্ধের। তাতে দেখা গেছে, মারা যাওয়া শিশুদের ৯২ শতাংশ হাম-রুবেলার টিকা পায়নি। জুনের শেষ সপ্তাহে মৃত্যু বেড়ে ৭০০-এর বেশি হয়েছে, সে ক্ষেত্রেও টিকা না পাওয়ার হার একই থাকবে বলে আমার ধারণা।

জনস্বাস্থ্যবিদ আবু জামিল ফয়সাল টিকাদান কর্মসূচির ত্রুটির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, বহু শিশুকে টিকা না দিয়েই বলা হয়েছে টিকা পেয়েছে, টিকার সাফল্যের কথা গাওয়া হয়েছে। সব পরিসংখ্যান ছিল বানোয়াট। তথ্য-উপাত্তে কারচুপি করা হয়েছে। নজরদারির কোনো ব্যবস্থা ছিল না। ছিল না কোনো জবাবদিহি। এত সব অনাচারের মূল্য দিতে হলো শিশুদের।

চলতি বছর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, নেপাল, থাইল্যান্ড ও মালদ্বীপে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। কলম্বোর সভায় বাংলাদেশের পরিস্থিতি বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়। গত ২৫ জুন ডব্লিউএইচও এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় হাম মোকাবিলায় জরুরি ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায়। পাশাপাশি বাংলাদেশের পরিস্থিতি সরেজমিনে মূল্যায়নের জন্য একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠানোর অনুরোধও জানানো হয়েছে।

ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করে এবং সদস্যদেশগুলোর কাছ থেকে প্রাপ্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে হাম নির্মূলের অগ্রগতি মূল্যায়ন করে। দেশের প্রতিটি জেলায় ডব্লিউএইচওর মেডিক্যাল কর্মকর্তারা হাম-রুবেলাসহ বিভিন্ন রোগের তথ্য সংগ্রহ করেন, যা সাপ্তাহিক ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করা হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© 2025 | Leading Media & Communication ltd এর এক‌টি প্রতিষ্ঠান।
Design & Development By HosterCube Ltd.