
রাতের পুরান ঢাকা, ঐতিহ্য আর ভিন্ন স্রোতে চলা জীবনের গল্প। ঘুম ঘুম শহরকে পেছনে ফেলে রাতের গভীরতার সাথে এখানে নতুন মাত্রা পায় নগরবাসীর আড্ডা, ভোজনবিলাস। জীবন উপভোগের প্রশ্নে বোধহয় অনেকটাই এগিয়ে পুরান ঢাকার গলিপথ। ওল্ড টাউনের বাসিন্দাদের দিন কেটে যায় ব্যবসা, ভোজনবিলাস আর অকৃত্রিম বন্ধনে।
কাজী আলাউদ্দিন রোড, বংশাল ও ফ্রেঞ্চ রোডের কিছু অংশ নিয়ে ঐতিহ্যবাহী নাজিরাবাজার এলাকা। ভোজনরসিকরা বলেন, দেশসেরা বিরিয়ানি, কাবাবের দোকানগুলো এখানেই। তাই রাজধানীসহ দূর-দূরান্ত থেকে অনেকে আসেন সেই সাদ আস্বাদনে।
পুরান ঢাকার বাসিন্দারও উপভোগ করেন এই সংস্কৃতি। নিজস্ব আমেজ থেকে রাতের আয়োজন এখন তাদের আতিথিয়তা। তারা ভালোবাসেন রাতের সামিয়ানায় দলবেঁধে আড্ডা দিতে। বিরিয়ানি, তেহারি, চাপ, সিজলিং কাবাব ইত্যাদির সাথেই চলে রজনীর আয়োজন।
ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে এখন নতুন-পুরাতন শতাধিক খাবারের দোকান গড়ে উঠলেও চলছে নামকাওয়াস্তে। খাবারের জন্য জনপ্রিয় এ রাস্তায় রিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেলসহ সারারাত পণ্য পরিবহনও চলে অবাধে। নিজ নিজ দোকানের সামনে দায়সারা ট্রাফিকিং করছেন কেউ কেউ। যানজটের মাঝেই আছে পার্কিং। তেলের তাওয়াসহ রাস্তাতেই দোকানের অংশ।
নেই পর্যাপ্ত ফায়ার ফাইটিং ব্যবস্থা অথচ আছে আগুনের সংস্পর্শে বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি। খাবারের সৌরভ দুর্গন্ধে মিলিয়ে যাচ্ছে কয়েক গজে। এখানকার দোকানিরাই বর্জ্য ফেলছেন খোলা রাস্তায়। আছে বৃষ্টিতে রাস্তায় পানি উঠে যাওয়ার উপদ্রব।