leadingnews.net
সর্বশেষ :
leadingnews.net এ আপনাকে স্বাগতম।।। নিত্য নতুন খবর সবার আগে পেতে আমাদের সাথে থাকুন।।। ধন্যবাদ।।।

রাতের খাওয়া, ঘুম ও স্থূলতা: আধুনিক জীবনের অদৃশ্য বিপাকীয় সংকট

  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬
  • ২২ বার পঠিত
বাংলাদেশে স্থূলতা এখন নীরব মহামারির রূপ নিচ্ছে। শহুরে জীবনের ব্যস্ততা, অনিয়মিত ঘুম, মানসিক চাপ এবং রাতের দেরি করে খাওয়ার অভ্যাস সব মিলিয়ে আমাদের বিপাকীয় স্বাস্থ্যে গভীর প্রভাব ফেলছে।

সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, রাতের খাবারের সময়, ঘুমের মান এবং শরীরের ওজন, এই তিনটি একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। রাতের দেরি করে খাওয়া এখন অনেকের দৈনন্দিন অভ্যাস।

অফিসের কাজ, মোবাইল ব্যবহার, টিভি দেখা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় কাটাতে গিয়ে রাত ১১টা–১২টার পর খাবার খাওয়া খুব সাধারণ হয়ে গেছে। কিন্তু রাতে শরীরের বিপাকীয় হার কম থাকে, ইনসুলিন সংবেদনশীলতা কমে যায়।
ফলে একই খাবার দিনে খেলে যে পরিমাণ শক্তি ব্যবহার হয়, রাতে খেলে তার অনেক কম অংশ পোড়ে। অতিরিক্ত ক্যালরি জমা হয় চর্বি হিসেবে, যা ধীরে ধীরে ওজন বাড়ায়।
রাতের খাওয়া ঘুমের মানও নষ্ট করে। ভারী খাবার খেলে পাকস্থলী সক্রিয় থাকে, ফলে ঘুম গভীর হয় না। বারবার জেগে ওঠা, অস্থির ঘুম, সকালে ক্লান্তি, এসবই রাতের দেরি করে খাওয়ার সাধারণ ফল। ঘুমের ঘাটতি আবার ক্ষুধা বাড়ায়। লেপটিন কমে যায়, ঘ্রেলিন বাড়ে, যা মিষ্টি, ভাজাপোড়া ও উচ্চ কার্বোহাইড্রেট খাবারের প্রতি আকর্ষণ বাড়ায়। ফলে পরদিন অতিরিক্ত খাওয়া ও ওজন বৃদ্ধি, একটি দুষ্টচক্র তৈরি হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন ছয় ঘণ্টার কম ঘুমান, তাদের স্থূলতা, টাইপ–২ ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ঘুমের অভাব ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বাড়ায়, যা ওজন বৃদ্ধির পাশাপাশি ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। বাংলাদেশে তরুণদের মধ্যে রাত জাগা, দেরি করে খাওয়া এবং অনিয়মিত ঘুম, স্থূলতার অন্যতম কারণ হয়ে উঠছে।

সমাধান খুব কঠিন নয়। রাতের খাবার সন্ধ্যা ৭টা–৮টার মধ্যে খাওয়া, হালকা খাবার বেছে নেওয়া, ঘুমানোর আগে স্ক্রিন টাইম কমানো এবং প্রতিদিন ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম, এই চারটি অভ্যাস স্থূলতা কমাতে কার্যকর। যারা ওজন কমাতে চান, তাদের জন্য রাতের খাবারের সময় ঠিক করা ঘুম ঠিক করার মতোই গুরুত্বপূর্ণ।

রাতের খাওয়া, ঘুম ও স্থূলতা, এই তিনটি একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। সচেতনতা ও নিয়মিত জীবনযাপনই এই বিপাকীয় সংকট মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© 2025 | Leading Media & Communication ltd এর এক‌টি প্রতিষ্ঠান।
Design & Development By HosterCube Ltd.