২০২৪-এর আগস্টে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নতুন করে ১৪টি রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধন দেয় নির্বাচন কমিশন, যাদের অনেকেই মূলত কিংস পার্টি হিসেবে পরিচিত। এই ১৪টি দলের মধ্যে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এনসিপি জামায়াতের সঙ্গে জোট বেঁধে ছয়টি আসনে জয়লাভ করে। এর বাইরে বিএনপির বদান্যতায় গণঅধিকার পরিষদ ও গণসংহতি আন্দোলনও একটি করে আসন পায়। বাকি ১১টি দল কোনো আসন পায়নি। এমনকি এসব দলের প্রায় সব প্রার্থীর জামানতও বাজেয়াপ্ত হয়। গত ১৮ আগস্ট বাংলা ট্রিবিউন এ দলগুলোর ওপর একটা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সে অনুসারে, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া এই দলগুলোর বেশির ভাগেরই খুব বেশি নেতাকর্মী নেই, যারা একটি কার্যালয় ভাড়া নিয়ে কয়েকটি চেয়ার-টেবিল পেতে এবং ব্যানার-সাইনবোর্ড টানিয়েই কোনোমতে অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে। ফলে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে এরা কথা বলবে, এমন প্রত্যাশা বাতুলতা।
নিবন্ধিত দলগুলোর মধ্যে সিপিবি-বাসদসহ কয়েকটি বাম দল আছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ড. ইউনূস সরকার সম্পাদিত ‘দেশবিরোধী’ বাণিজ্য চুক্তিসহ কিছু বিষয় নিয়ে তারা কথা বলছে বটে, তবে সে আওয়াজ তেমন জোরালো নয়। তাদের শক্তি সীমিত, সন্দেহ নেই; তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শরিক এ দলগুলো বিশেষত সরকার প্রশ্নে এক প্রকার ‘শ্যাম রাখি না কুল রাখি’ দ্বন্দ্বেও ভুগছে বলে মনে হচ্ছে।
আমি নিশ্চিত, মানুষ চলমান সংকটগুলোর একটা বিহিত চায়। চায় গ্যাস-বিদ্যুতের হাহাকার থেকে মুক্তি। কিন্তু তা কীভাবে হবে, সেটি কেউ জানে না। কোনো গুরুত্বপূর্ণ দাবি নিয়ে কেউ মাঠে নামলেই অন্তর্বর্তী সরকার তাকে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ তকমা দিত। ওই বিপজ্জনক প্রবণতা বন্ধ হয়েছে, তা বলা যায় না।
তাহলে কি রাজনীতির মাঠে প্রতিবাদ, প্রতিরোধের জায়গা শূন্যই থাকবে? তবে এমনটা তো আওয়ামী লীগও ভেবেছিল। এখনকার জামায়াতের মতো তাদেরও ‘গৃহপালিত’ বিরোধী দল ছিল। সেই বিরোধী দলকেও জনগণ প্রয়োজনের সময় মাঠে পেত না। তবে প্রকৃতি যেমন শূন্যস্থান পছন্দ করে না; রাজনীতির ময়দানও বেশি দিন ফাঁকা থাকবে না। সরকার ইতোমধ্যে ছয় মাস পার করেছে। তার মধুচন্দ্রিমাও শেষ হয়েছে। তবে গণঅভ্যুত্থানের রেশ এখনও আছে বলে সরকার হয়তো
কখনও বিগত আওয়ামী সরকারকে, কখনও অন্তর্বর্তী সরকারকে দোষ দিয়ে নানা ইস্যুতে পার পেয়ে যাচ্ছে। তাই এমনটা মনে হচ্ছে– গ্যাস নেই বিদ্যুৎ নেই; দেশে সক্রিয় কোনো রাজনৈতিক দলও নেই!
জোবাইদা নাসরীন: শিক্ষক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়