রাতের খাওয়া ঘুমের মানও নষ্ট করে। ভারী খাবার খেলে পাকস্থলী সক্রিয় থাকে, ফলে ঘুম গভীর হয় না। বারবার জেগে ওঠা, অস্থির ঘুম, সকালে ক্লান্তি, এসবই রাতের দেরি করে খাওয়ার সাধারণ ফল। ঘুমের ঘাটতি আবার ক্ষুধা বাড়ায়। লেপটিন কমে যায়, ঘ্রেলিন বাড়ে, যা মিষ্টি, ভাজাপোড়া ও উচ্চ কার্বোহাইড্রেট খাবারের প্রতি আকর্ষণ বাড়ায়। ফলে পরদিন অতিরিক্ত খাওয়া ও ওজন বৃদ্ধি, একটি দুষ্টচক্র তৈরি হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন ছয় ঘণ্টার কম ঘুমান, তাদের স্থূলতা, টাইপ–২ ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ঘুমের অভাব ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বাড়ায়, যা ওজন বৃদ্ধির পাশাপাশি ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। বাংলাদেশে তরুণদের মধ্যে রাত জাগা, দেরি করে খাওয়া এবং অনিয়মিত ঘুম, স্থূলতার অন্যতম কারণ হয়ে উঠছে।
সমাধান খুব কঠিন নয়। রাতের খাবার সন্ধ্যা ৭টা–৮টার মধ্যে খাওয়া, হালকা খাবার বেছে নেওয়া, ঘুমানোর আগে স্ক্রিন টাইম কমানো এবং প্রতিদিন ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম, এই চারটি অভ্যাস স্থূলতা কমাতে কার্যকর। যারা ওজন কমাতে চান, তাদের জন্য রাতের খাবারের সময় ঠিক করা ঘুম ঠিক করার মতোই গুরুত্বপূর্ণ।
রাতের খাওয়া, ঘুম ও স্থূলতা, এই তিনটি একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। সচেতনতা ও নিয়মিত জীবনযাপনই এই বিপাকীয় সংকট মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।