সর্বশেষ :
leadingnews.net এ আপনাকে স্বাগতম।।। নিত্য নতুন খবর সবার আগে পেতে আমাদের সাথে থাকুন।।। ধন্যবাদ।।।
শিরোনাম :
চট্টগ্রামে সন্ত্রা/সী/দের গু/লিতে আ/হত শিশু রেশমি আর নেই বিশ্বকাপে ফুটবলারদের স্বাস্থ্যঝুঁকির শঙ্কা, কিন্তু কেন নেতানিয়াহুর ‘গোপন সফর’ অস্বীকার করল আরব আমিরাত ঝুঁকিপূর্ণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তথ্য চেয়েছে সরকার শান্ত-মুমিনুলের ব্যাটিংয়ে ড্রাইভিং সিটে বাংলাদেশ ট্রাইব্যুনালে ২২৭৬ নেতাকর্মীকে গুম-খুনের ফের অভিযোগ বিএনপির ‘দায়িত্ব পালনে পুলিশ সক্ষমতার প্রমাণ দিলে নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।’ বিজয়ের শপথের পর যে স্মৃতি তুলে ধরে আবেগে ভাসলেন বাবা চন্দ্রশেখর ১০০ উপজেলা ও পৌরসভায় এনসিপির প্রার্থী ঘোষণা কটিয়াদীতে পুরোনো দেয়াল ধসে ১১ বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

বিপন্ন মানবতা

  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ১ আগস্ট, ২০২৫
  • ১২৪ বার পঠিত

মিয়ানমারের জান্তা সরকার কর্তৃক রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগ রয়েছে। এ গণহত্যার ফলে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, মানবাধিকার গোষ্ঠী এবং আন্তর্জাতিক আদালত মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে জাতিগত নির্মূল ও গণহত্যার অভিযোগ এনেছে। ২০১৬ সালের শেষের দিকে, মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশ রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর ব্যাপক দমনপীড়ন শুরু করে। এ পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কর্মকর্তারা, মানবাধিকার গোষ্ঠী, সাংবাদিক এবং সরকার মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে জাতিগত নির্মূল ও গণহত্যার অভিযোগ করেন।

২০১২ সালে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিম ও বৌদ্ধ রাখাইনদের মধ্যে সংঘর্ষের পর রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন আরও বাড়ে। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের হত্যা, নির্যাতন, ভূমি দখল এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধ করে। এর ফলস্বরূপ, দশ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা জীবন বাঁচাতে মিয়ানমার সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। কিছু সূত্র থেকে জানা যায়, মিয়ানমারের জান্তা সরকার রোহিঙ্গাদের ওপর অত্যাচারের প্রমাণ মুছে ফেলার চেষ্টা করছে এবং নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের মুখ বন্ধ করার জন্য চাপ দিচ্ছে।

এবার মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক জান্তার সঙ্গে তুমুল লড়াই চালিয়ে যাওয়া আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের অপহরণ, নির্যাতন, হত্যা, শিরশ্ছেদসহ যুদ্ধাপরাধ সংঘটনের অভিযোগ তুলে তা তদন্তে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দেশটির মানবাধিকার সংস্থা ফোর্টিফাই রাইটস। সম্প্রতি সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, ফোর্টিফাই রাইটসের নতুন এক তদন্তে উঠে এসেছে যে, রাখাইনের বেশিরভাগ অংশ নিয়ন্ত্রণকারী আরাকান আর্মি তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন অস্থায়ী আটক কেন্দ্র এবং গ্রামগুলোতে যুদ্ধ আইনের গুরুতর লঙ্ঘন ঘটিয়েছে। প্রতিবেদনে ফোর্টিফাই রাইটসের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ এজাজ মিন খান্ত বলেন, ‘আরাকান আর্মি রোহিঙ্গাদের ব্যাপক হারে অপহরণ, নৃশংস নির্যাতন এবং হত্যার জন্য দায়ী। নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের অনেকের শিরশ্ছেদ করা হয়েছে, যা যুদ্ধ আইনের ভয়ানক লঙ্ঘন। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের এখতিয়ার রয়েছে এবং তাদের উচিত রাখাইন রাজ্যে গুরুতর অপরাধের তদন্ত ও বিচার করা, যেসব ঘটনায় অপরাধীদের মধ্যে আরাকান আর্মির সদস্যরাও অন্তর্ভুক্ত।’

২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত ফোর্টিফাই রাইটস ৩৯ জন রোহিঙ্গার (আটজন নারীসহ) সাক্ষাৎকার নিয়েছে, যারা ২০২৪ ও ’২৫ সালে আরাকান আর্মির হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বা প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন। ফোর্টিফাই রাইটস আরাকান আর্মির অপরাধের স্থির এবং ভিডিও চিত্র প্রমাণ হিসেবে পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করেছে। এ ছাড়া ফোর্টিফাই রাইটস আরাকান আর্মি নিয়ন্ত্রিত গ্রাম এবং অস্থায়ী আটক কেন্দ্রগুলোতে একাধিক বেসামরিক রোহিঙ্গা নাগরিকের হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নথিভুক্ত করেছে, যার মধ্যে আরাকান আর্মির হাতে পাঁচজনের শিরশ্ছেদের ঘটনাও রয়েছে। এ অনুসন্ধানে একটি পদ্ধতিগত প্যাটার্নও উন্মোচিত হয়েছে, যেখানে রোহিঙ্গাদের অপহরণের পর আরাকান আর্মি নিয়ন্ত্রিত আটককেন্দ্র ও শহরগুলোতে নিয়ে নির্যাতন বা হত্যার প্রমাণ মিলেছে।

আমরা মনে করি, দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের ওপর যে নির্মম নির্যাতন চলছে, তা বন্ধ করতে হবে। এই মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি মিয়ানমার থেকে উচ্ছেদ হওয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© 2025 | Leading Media & Communication ltd এর এক‌টি প্রতিষ্ঠান।
Design & Development By HosterCube Ltd.