
মো: আজমির হোসেন
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ডীন, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নারী সংসদ সদস্য বিএনপি যেভাবে বাছাই করতেছে এবার, তা এপ্রিশিয়েবল।কয়েকটি স্তরে ফিল্টার করে বিএনপির দীর্ঘ পরীক্ষিত ত্যাগী এবং ডেডিকেটেড, জেনুইন পলিটিক্যাল কর্মীদের ছেঁকে আলাদা করা হচ্ছে।
প্রথমত বিএনপি সিবার জন্য নমিনেশন উন্মুক্ত করে দিল। কলেজে পড়ুয়া কোনো নারী ছাত্রদল কর্মীও যেমন সংগ্রহ করতে পেরেছেন, তেমনি সিনিয়র মহিলা বিএনপির নেত্রীদের সাথে অরাজনৈতিক, মিডিয়া, সমাজকর্মী বা বিএনপির শুভাকাঙ্ক্ষী যেকেউ নমিনেশন পেপার তোলার সুযোগ পেয়েছেন।
দ্বিতীয় ধাপে, যেখান থেকেই ফিল্টার করা শুরু হয় সেখানে মনোনয়ন পেপার জমাদানে অল্প টাকার জামানত বাড়িয়ে দেওয়া হলো। যাতে যেগুলো ফাও ফাও পেপার তুলছেন শুধুমাত্র ফেইসবুকে আপলোড করতে বা ফটোশ্যুট করার জন্য কিংবা আলোচনায় আসার জন্য এরা পেপার জমাদান প্রক্রিয়া পর্যন্ত আর না আগায়।
সবাইকে নমিনেশন পেপার জমার সঙ্গে অবশ্যই আপডেটেড সিভি যোগ করতে নির্দেশ দিয়েছে। এখানে আরেক ধাপে যোগ্যতা দক্ষতা অভিজ্ঞতা ফিল্টার করা হলো।
সেইসাথে নিজে কিংবা স্বামীর নামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকলে সেসবে ঋণ নেওয়া আছে কিনা, থাকলে বিস্তারিত তথ্যপ্রদান এবং ফৌজদারি মামলা আছে কিনা, থাকলে তার বিবরণ, এসব নিয়ে ক্লিয়ার স্টেটমেন্ট নেওয়া হয়েছে।
যারা সকল ক্রাইটেরিয়া মেনে এই শেষ ধাপ পর্যন্ত এসেছেন, তাদেরকে ডাকা হয়েছে চুড়ান্ত ভাইভার জন্য।
এই কাজটা বিএনপি নারী এমপি মনোনয়ন প্রত্যাশীদের জন্য একবারে আনএক্সপেক্টেড ছিল। কেউ ভাবেনও নাই এমন কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে। অতীতে বিএনপি বা অন্যান্য কোন রাজনৈতিক দলকে এই কাজ করতে দেখা যায়নি। শীর্ষ নেতৃত্ববৃন্দের সিগন্যালের ভিত্তিতেই গুটিকয়েক নির্দিষ্ট নারীরা নমিনেশন তুলতেন। কিন্তু এবার আর তা হয়নি।
দুইদিনে প্রায় সাড়ে ৯০০ জন ভাইভাতে মুখোমুখি হয়েছেন মনোনয়ন বোর্ডের। যার নেতৃত্বে ছিলেন স্বয়ং বিএনপির চেয়ারম্যান এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান। গত শুক্র-শনি, দুপুর থেকে মধ্যরাত পর্যন্তই চলছে এ বিশাল কর্মযজ্ঞ।
ভাইভাতে সকল নারী প্রার্থীদের কমন যে ৫টি প্রশ্নের মুখোমুখি করা হয়েছে এগুলো ছিল নতুনত্বের বহিঃপ্রকাশ।
এক, কবে থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন?
দুই, বর্তমানে সংগঠনের কোন স্তরে কাজ করছেন?
তিন, বিগত সাড়ে ১৫ বছরে দলের জন্য আপনার অবদান কী? যেমন: মামলা থাকলে কয়টি, কীসের মামলা। হামলার শিকার হয়ে থাকলে কতবার, কখন এবং কোন আন্দোলনে, কোন প্রেক্ষিতে ইত্যাদি।
চার, কেন আপনি নিজেকে সংরক্ষিত নারী কোটায় দলের একজন সংসদ সদস্য হিসেবে সুযোগ পাওয়ার জন্য যোগ্য মনে করছেন?
পাঁচ, আপনাকে সিলেকশন করা হলে আপনি সংসদে গিয়ে ঠিক কীভাবে ভূমিকা রাখবেন দেশ এবং জনগণের জন্য?
মনোনয়ন পেপারের সকল তথ্য যাচাই, সিভি রিভিউ, দলের জন্য বিগত শেখ হাসিনা সরকারের দেড় যুগের শাসনামলে প্রার্থীর অবদান পর্যালোচনা এবং ভাইভার পারফর্মেন্স, এ সবকিছু বিবেচনা করেই চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মনোনয়ন বোর্ড।
তবে এরমধ্যে হয়তবা অল্প কয়টি সিটে বিশেষ বিবেচনা কিংবা কাটাছেঁড়া হবে, তা আগে থেকেই বলাযায়; বড় রাজনৈতিক দলের জন্য এটি স্বাভাবিক ব্যাপার ।
তবে, বিএনপি এবার গৎবাঁধা প্রক্রিয়ায় ’পছন্দসই’ নারী এমপি বাছাই করা থেকে বেরিয়ে ডেমোক্রেটিক প্রসেসে যেভাবে ত্যাগী এবং দলের জন্য ডেডিকেটেড কর্মীদের থেকে এমপি বাছাই করার উদ্যোগ নিয়েছে, এটা আশাজাগানিয়া।এভাবেই ত্যাগীদের মূল্যায়ন করার মধ্যদিয়ে দলটি ভবিষ্যতে ব্যাপকভাবে তাদের নারী লিডারশীপ তৈরি করতে সম্ভবপর হবে।