
পুলিশের অভিযানকালে বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) আবাসিক ভবন থেকে পড়ে ছাত্রদল নেতা মনোয়ারুল হোসেন বকশীর মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত ও বিচারের দাবি জানানো হয়েছে। এই দাবিতে গতকাল রোববার দুপুরে বিপিএটিসির ফটকের সামনে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আরিচামুখী লেনের পাশে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করা হয়েছে।
মানববন্ধনে নিহত মনোয়ারুল হোসেন বকশীর বড় ভাই মমদেল হোসেন বকশী অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। আমি হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই। যারা এই হত্যার সঙ্গে জড়িত, যারা পরিকল্পিতভাবে আমার ভাইকে হত্যা করেছে, তাদের প্রত্যেকের বিচার চাই।’
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ ইকবাল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুজন সিকদার, সাভার থানা ছাত্রদলের সহসভাপতি সালমান শাহ, সহসভাপতি সাগর হোসেন প্রমুখ। মানববন্ধনে বিপিএটিসি স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ও নিহতের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।
ছাত্রদল নেতা মাহফুজ ইকবাল বলেন, মনোয়ারুল হোসেন বকশীকে যারা হত্যা করেছে, তারা প্রশাসনের যত বড় অফিসার হোক, তাদের ফৌজদারি অপরাধ থেকে অব্যাহতির সুযোগ নেই। তাদের নামে মামলা করা হবে এবং আইন মোতাবেক তাদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এই হত্যাকাণ্ডের বিচারে কোনো ধরনের কালক্ষেপণ করা যাবে না। তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচারের দাবি জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রাতে সাভারে বিপিএটিসির ঝুমকোলতা নামক আবাসিক ভবনে মনোয়ারুল হোসেন বকশীর ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়েছিলেন রংপুরের পীরগাছা থানার একদল পুলিশ সদস্য। তাদের সঙ্গে ছিল সাভার থানার একটি টিম। পীরগাছা থানার পুলিশের কাছে তথ্য ছিল নিখোঁজ কিশোরী ওই ফ্ল্যাটটিতে অবস্থান করছে। পুলিশ ওই ফ্লাটে অভিযানে গেলে মনোয়ারুল হোসেন বকশী ছাদে যান। এ সময় ছাদ থেকে পড়ে মারা যান তিনি। মনোয়ারুল হোসেন বকশীর বাবা জাফর আলী বিপিএটিসির নিরাপত্তারক্ষীর চাকরি করেন। বাবার ফ্ল্যাটে থাকতেন মনোয়ারুল হোসেন বকশী। তাদের গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের দক্ষিণ হাতিবান্ধায়।