
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ও স্টাফ পরিবহনকারী বাসে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় মানিকগঞ্জের সিংগাইর থানা গিয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. রইছ উদ্দীন। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় ভিসিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল সিংগাইর থানায় আসেন। তারা পুলিশের সঙ্গে ঘটনার বিষয়ে আলোচনা করেন এবং হামলার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
জবির ভিসি ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
এ সময় ছিলেন সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুন্নাহার, বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ড. ছাবিনা শারমিন, প্রক্টর ড. আজম খান, অধ্যাপক ড. নাসির উদ্দিন, সিংগাইর সার্কেলের সহকারী পুলিশ কমিশনার ফাহিম আসজাদ, সিংগাইর থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম, জবি ছাত্র সংসদের ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদস্যসচিব ছামছুল আরিফসহ ১০০ থেকে ১৫০ শিক্ষার্থী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাসের সঙ্গে অটোরিকশার ধাক্কা লাগে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অটোরিকশায় থাকা মো. কাউসারের সঙ্গে বাসের যাত্রীদের কথা কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। জবির বাসটি সিংগাইরের দিকে যাচ্ছিল। বাসটি উপজেলার ভূমদক্ষিণ এলাকায় পৌঁছালে কাউসারসহ তিন-চারজন ব্যক্তি হামলা চালান। বাসটির জানালার কাচ ভাঙচুর করা হয়। হামলায় জবির ১০ জন আহত হন। তাদের সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
অভিযুক্ত কাউসারের বক্তব্য পাওয়া না গেলেও তার বাবা ভূমদক্ষিণ স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, গত মঙ্গলবার হেমায়েতপুর থেকে অটোরিকশায় আসার পথে আমার ছেলে কাউসারের সঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বাসের স্টাফ ও শিক্ষার্থীরা তাকে মারধর করেন। পরে আমার ছেলে রেগে গিয়ে কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে বাসটির কয়েকটি কাচ ভাঙচুর করেছে। তবে কাজটি ছেলে সঠিক করেনি।
সিংগাইর সার্কেলের এএসপি ফাহিম আসজাদ বলেন, এ ঘটনায় বাসের চালক বাদী হয়ে সিংগাইর থানায় মামলা করেছেন। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।