সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রে পাথর লুটের ঘটনায় জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দাখিল করেছে। এই প্রতিবেদনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী, ব্যবসায়ী এবং প্রশাসনের কিছু ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। তবে, বিভিন্ন সূত্রে প্রকাশিত তালিকাগুলোতে নামের সংখ্যায় কিছু পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।
বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জড়িতদের তালিকায় যাদের নাম এসেছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু নাম নিচে দেওয়া হলো:
সিলেট মহানগর জামায়াতে ইসলামীর: মো. ফকরুল ইসলাম (আমির) ও জয়নাল আবেদীন (সেক্রেটারি)।
সিলেট জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি): নাজিম উদ্দিন (প্রধান সমন্বয়কারী) ও আবু সাদেক মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম চৌধুরী (মহানগর প্রধান সমন্বয়কারী)।
বিএনপি: স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী। একটি সূত্র অনুযায়ী, ৪২ জনের তালিকায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী রয়েছেন।
আওয়ামী লীগ: নাম প্রকাশ করা হয়েছে এমন কিছু আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী।
প্রশাসনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ:
- দুদকের অনুসন্ধানে জানা গেছে, পাথর লুটের টাকার ভাগ প্রশাসনের কর্মকর্তা, পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরাও পেতেন।
- প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবৈধভাবে উত্তোলন করা পাথরের প্রতিটি ট্রাক থেকে পুলিশ এবং প্রশাসনের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ আলাদা করে রাখা হতো।
- পুলিশের কমিশনের টাকা এসপি, সার্কেল এএসপি, ওসি এবং আরও কিছু পুলিশ সদস্যের কাছে যেত বলে জানা গেছে।
- দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো, স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের কর্তব্যে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
উল্লেখিত তালিকাটি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে সংগৃহীত। তদন্ত কমিটি আরও ব্যাপক ও পুর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির কাজ করছে এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও এ বিষয়ে কাজ করছে। এছাড়া, পাথর লুটের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ১,৫০০ জনকে আসামি করে মামলাও দায়ের করা হয়েছে।