মতলব উত্তরের সাড়ে পাঁচানী গ্রামের কাজী বাড়ির নিবাসী মোঃ খোরশেদ কাজীর দুই বছর বয়সী ছেলে রাফসানের পুকুরে ডুবে মৃত্যুর সংবাদটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও বেদনাদায়ক। এই শোকাবহ ঘটনায় গভীরভাবে মর্মাহত শিশুটির পরিবার। মহান আল্লাহ্ যেন তাদের এই কঠিন সময়ে ধৈর্য ধারণ করার শক্তি দেন এবং শিশু রাফসানকে জান্নাতের ফুল হিসেবে কবুল করেন।
এই ধরনের ঘটনা আমাদের সবাইকে গভীরভাবে নাড়া দেয় এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে নিয়ে আসে। পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু বাংলাদেশে একটি ভয়াবহ জনস্বাস্থ্য সমস্যা।
পরিসংখ্যান কী বলছে? বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে শিশু মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ পানিতে ডুবে যাওয়া।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও ইউনিসেফ (UNICEF)-এর তথ্যমতে, বাংলাদেশে প্রতি বছর ১৪,০০০-এর বেশি শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। অর্থাৎ, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪০ জন শিশুর জীবন কেড়ে নিচ্ছে নীরব ঘাতক পানি।
- বিশেষ করে ১ থেকে ৪ বছর বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে মৃত্যুর প্রধান কারণ হলো পানিতে ডুবে যাওয়া। এই বয়সী শিশুদের মোট মৃত্যুর প্রায় ৪৩% ঘটে এ কারণে।
- অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দুর্ঘটনাগুলো ঘটে বাড়ির আশেপাশে, পুকুর বা ডোবার মতো জলাশয়ে এবং সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টার মধ্যে, যখন মায়েরা বা অভিভাবকেরা দৈনন্দিন কাজে ব্যস্ত থাকেন।
এই পরিসংখ্যানগুলো ভয়াবহ এবং এটি প্রমাণ করে যে ব্যবহারকারীর উদ্বেগটি অমূলক নয়। পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর হারে পৃথিবীতে বাংলাদেশের অবস্থান উপরের দিকে।
এই ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা রোধে ব্যক্তিগত ও সামাজিক পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর প্রতি আমাদের আরও যত্নশীল হতে হবে:
- সার্বক্ষণিক নজরদারি: ছোট শিশুদের, বিশেষ করে যারা হাঁটতে শিখেছে, তাদের বাড়ির আশেপাশে জলাশয় থাকলে এক মুহূর্তের জন্যও চোখের আড়াল করা উচিত নয়।
- সুরক্ষিত পরিবেশ: বাড়ির চারপাশের পুকুর বা ডোবায় বেড়া দেওয়া বা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা যেতে পারে।
- সাঁতার শেখানো: বয়স ছয় বছর হলেই শিশুদের সাঁতার শেখানোর ব্যবস্থা করা উচিত।
- দিবাযত্ন কেন্দ্র: যেসব এলাকায় সম্ভব, সেখানে কমিউনিটি ভিত্তিক ‘দিবাযত্ন কেন্দ্র’ বা ‘আঁচল’ প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে, যেখানে শিশুরা দিনের একটা নির্দিষ্ট সময় নিরাপদে খেলাধুলা করতে পারে।
রাফসানের মতো আর কোনো শিশুকে যেন আমরা এভাবে না হারাই, সেই লক্ষ্যে আমাদের সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। আসুন, আমরা নিজে সচেতন হই এবং আমাদের আশেপাশের সবাইকে, বিশেষ করে অন্য অভিভাবকদের এই বিষয়ে সচেতন করে তুলি। প্রতিটি শিশুর জীবন মূল্যবান এবং তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা আমাদের সকলের সম্মিলিত দায়িত্ব।