ঢাকা, ২৯ আগস্ট, ২০২৫: মিয়ানমারের জলসীমায় অবৈধভাবে মাছ ধরার অভিযোগে ১৯টি ট্রলারসহ ১২২ জন জেলেকে ফিরিয়ে এনেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) টেকনাফের নাফ নদী ও শাহপরীর দ্বীপ মোহনা থেকে তাদের ফিরিয়ে আনা হয়। আটককৃতদের মধ্যে ২৯ জন বাংলাদেশি এবং ৯৩ জন রোহিঙ্গা নাগরিক রয়েছেন।
কোস্ট গার্ড সদর দফতরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক জানান, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে জেলেদের ফিরিয়ে আনা হয়। তারা নাফ নদীর শূন্যরেখা অতিক্রম করে মিয়ানমারের জলসীমায় প্রবেশ করেছিলেন, যা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।
সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের কারণে ওই অঞ্চলের জলসীমায় আরাকান আর্মির তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রায়শই বাংলাদেশি জেলেরা তাদের হাতে আটক হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ১২২ জন জেলেকেও আরাKAN আর্মির হাতে আটক হওয়ার ঝুঁকি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক আরও বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের কারণে সীমান্তে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান প্রতিরোধের কাজ ব্যাহত হচ্ছে। এর মধ্যেই জেলেদের বারবার সীমানা লঙ্ঘনের ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
উদ্ধারকৃত জেলে এবং জব্দকৃত ট্রলারগুলো বর্তমানে কোস্ট গার্ডের শাহপরীর দ্বীপ স্টেশনে রয়েছে। তাদের এবং ট্রলার মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।
স্থানীয় ট্রলার মালিকদের তথ্যমতে, চলতি মাসের ৫ থেকে ২৮ তারিখ পর্যন্ত আরাকান আর্মি ১০টি ট্রলারসহ ৬৩ জন জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে। গত ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে ২৬৭ জন বাংলাদেশি জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ১৮৯ জনকে পরবর্তীতে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।