আরিয়ান খান [কক্সবাজার প্রতিনিধি]
ঘুমধুমে আবারও বড় সাফল্য পেয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। জেলার ঘুমধুম সীমান্তে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৪০ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তিন রোহিঙ্গা মাদক কারবারিকে আটক করেছে বিজিবি সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভোর রাত প্রায় ৩টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযান পরিচালনা করে কক্সবাজারের ৩৪ বিজিবি ব্যাটালিয়ন।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে ইয়াবা চোরাচালানের খবর পেয়ে সীমান্তবর্তী মন্ডলপাড়া এলাকায় অতিরিক্ত টহল জোরদার করা হয়। এ সময় মিয়ানমার দিক থেকে তিনজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবি সদস্যরা তাদের আটকানোর চেষ্টা চালায়। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালানোর চেষ্টা করে এবং একটি ব্যাগ ফেলে দেয়। তবে ধাওয়া করে বিজিবি সদস্যরা তাদের তিনজনকেই আটক করতে সক্ষম হন।
পরে ব্যাগটি তল্লাশি করে ৪০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। আটককৃতরা হলেন ক্যাম্প ১৯, ব্লক ডি/৯, এসসিএন ১১৫০৫২ এর মৃত্যু হাফেজ আহমেদ এর পুত্র মোঃ হাসান (২৫) আবদুর রহিমের পুত্র এনাম করিম (২৫) ক্যাম্প ১৯, ব্লক এ/৯, এসসিএন ২০৫৯৬৭ এর বাসিন্দা মোঃ হাসানের পুত্র
৩. মোঃ আয়াস (২১)।
অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম, পিএসসি বলেন—
“বিজিবি শুধু সীমান্ত পাহারাতেই নয়, বরং মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধেও সমানভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও জানান, আটককৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
কক্সবাজার রিজিয়নের রামু সেক্টরের অধীনস্থ কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্ত সুরক্ষা ও মাদকবিরোধী অভিযানে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করে আসছে। এ ধরনের অভিযানের ফলে স্থানীয়দের মধ্যে বিজিবির প্রতি আস্থা ও স্বস্তি ফিরে এসেছে।
স্থানীয়রা মনে করেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজিবির এ ধরনের সফল অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হলে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা ধীরে ধীরে নিরুৎসাহিত হবে এবং সামাজিক অস্থিরতাও হ্রাস পাবে।
কক্সবাজারের সীমান্ত ঘেঁষা বিভিন্ন এলাকা ইয়াবা পাচারের প্রধান রুট হিসেবে চিহ্নিত। মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ইয়াবা কারখানা থাকায় সীমান্ত পথে প্রতিনিয়তই এসব মাদক বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। ফলে বিজিবি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।